আমাদের অভিজ্ঞতা বলে, কর কমালে এক সময় তা শূন্যে নামানোর দাবি আসে। এরপর শূন্য করা হলে ভর্তুকির দাবি করা হয়। একপর্যায়ে সে ভর্তুকির পরিমাণও বাড়াতে বলেন তারা। এ চক্রের কোনো শেষ নেই।’ কৃষি খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় এ কথা বলেন তিনি। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর ভবনে গতকাল এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘সবাই করহার কমানোর অনুরোধ করেন। অথচ আগামী বছর রাজস্ব আহরণ ৫০ শতাংশ বাড়াতে হবে। এ বিরোধপূর্ণ পরিস্থিতিতে যেখানে যৌক্তিক সমন্বয় প্রয়োজন, আমরা তা করব।’
কর কমিয়ে দিলে কর জাল বাড়বে—এমন ধারণা সঠিক নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদেরকে অবশ্যই দেশের জন্য প্রয়োজনীয় রাজস্ব আহরণের বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে।’
সভায় বাংলাদেশ এগ্রোকেমিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বামা) সভাপতি ও ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘কাঁচামাল আমদানিতে আমাদের শুল্ক দিতে হয়। কিন্তু যারা চূড়ান্ত পণ্য আমদানি করে, তাদের কোনো শুল্ক দিতে হয় না।’
বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘এটি গুরুতর অভিযোগ। আমরা অবশ্যই বিষয়টি বিবেচনা করব।’
এ সময় আরো কথা বলেন বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন, ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ এগ্রো ফিড ইনগ্রিডিয়েন্টস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন, এগ্রিকালচারাল মেশিনারি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ এগ্রো প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন এবং শ্রিম্প হ্যাচারি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশসহ কৃষি খাতের ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতা ও প্রতিনিধিরা।
এদিন সকালে পরিবহন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠনের সঙ্গেও বৈঠক করেন এনবিআর চেয়ারম্যান। এ সময় তিনি বলেন, ‘এ খাতে জ্বালানির ব্যবহার কমাতে চায় সরকার। প্রথম ধাপ হিসেবে শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক স্কুল বাস আমদানিতে শুল্ক শূন্যে নামানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আসন্ন বাজেটে এ খাতে অনেক পরিবর্তন আসবে। তবে এজন্য অপেক্ষা করব না। শিগগিরই শুল্ক অব্যাহতি দিতে এসআরও জারি করা হবে।’
সভায় পরিবহন খাতের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরে বাংলাদেশ অটোমোবাইলস অ্যাসেম্বলার্স অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ইনল্যান্ড ওয়াটারওয়ে (পিসি) অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ মোটরসাইকেল অ্যাসেম্বলার্স ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিকলস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ শিপ বিল্ডার্স অ্যাসোসিয়েশন, এভিয়েশন অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশসহ আরো বিভিন্ন সংগঠনের নেতা ও প্রতিনিধিরা।
তারা বলেন, গত ৮-১০ বছরে বাংলাদেশে গাড়ির নিবন্ধন অনেক কমে গেছে। অর্থাৎ রাস্তায় গাড়ির সংখ্যা কমে যাচ্ছে। এর ফলে সরকারও রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সম্পূরক শুল্ক কমালে গাড়ির বাজার আরো বিস্তৃত হবে।